মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

লাকসাম এর ইতিহাস

 

 

উপজেলার তথ্য

 

০১। উপজেলার পটভূমিঃ

              এ উপমহাদেশে একমাত্র নারী নবাব মুসলিম জমিদার ফয়জুনেণসার অমর স্মৃতি বিজরিত স্থান তৎকালীন মোহনাবাদ পরগণার পশ্চিমগাঁও এলাকাটি লাকসাম উপজেলায় অবস্থিত।  ঐতিহাসিকভাবে নানা কারণে লাকসাম উপজেলার খ্যাতি রয়েছে। ১৮৮৩ সালে এদেশে যখন বৃটিশ সরকার রেল লাইন স্থাপন করেন তখন দৌলতগঞ্জের উত্তরাংশে উচ্চ ভূমিতে রেলওয়ে জংশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বড়তুপা মৌজাতে যে, রেলওয়ে জংশনটির গোড়া পত্তন হয় উহার নামই হলো লাকসাম রেলওয়ে জংশন।

             লাকসাম নামকরণ উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মতামত রয়েছে। মনে করা হয় যে, এ এলাকায় লাখ লাখ শামছ এর আবাসস্থল ছিল বিধায় এর নামকরণ হয়েছে লাকসাম। শামছ আরবী শব্দ এবং এর অর্থ সূর্য্য, সূর্য্য আওলীয় দরবেশদেরকে বুঝাত। তাই বলা যায় লাখ লাখ শামছ হতেই লাকসাম নামের উৎপত্তি হয়েছে। আরো প্রবাদ রয়েছে যে, এ অঞ্চলে অসংখ্য ধনাট্য ব্যক্তির প্রভাব প্রতিপত্তির দরুনই লাকসাম নামকরণ করা হয়েছে। কিংবদন্তী রয়েছে যে, লাখ লাখ ’’শ্যাম’’ বা গোপীনি তথা সখি নিয়ে এ অঞ্চলে কেলী করত বলেই এ স্থানের নাম লাকশ্যাম থেকে লাকসাম হয়েছে।

            কুমিল্লা সদর থেকে মাত্র ২৯ কিঃ মিঃ দক্ষিণে ডাকাতিয়া নদীর তীরে এক মনোরম পরিবেশে লাকসাম উপজেলা সদর অবস্থিত। বর্তমানে লাকসাম ১টি ১ম শ্রেণীর পৌরসভা ও ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। লাকসামের উত্তরে সদর দক্ষিণ ও বরুড়া উপজেলা, পূর্বে নাঙ্গলকোর্ট, দক্ষিণে মনোহরগঞ্জ উপজেলা ,পশ্চিমে শাহরাস্তি ও বরুড়া উপজেলা। লাকসাম শহরটি বাণিজ্যিক শহর হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের বৃহৎ পাঁচটি রেলওয়ে জংশনের মধ্যে একটি এখানে অবস্থিত। লাকসাম থানাকে উপজেলায় রুপান্তর করা হয় ১৯৮২ সালে। বর্তমানে উপজেলার শিক্ষার হার ৪৩.৮১%। মোট জনসংখ্যার ৩৪.০৫% কৃষি, ১১.২১% ব্যবসা, ১৩.৫৫% চাকরি, ৩.২৮% পরিবহন ১৯.০৮% কৃষি শ্রমিক, ৩.৭৭%অকৃষি শ্রমিক, ১.২১% নির্মাণ শ্রমিক এবং ১৩.৮৫% অন্যান্য পেশার উপর নির্ভরলশীল।

লাকসাম উপজেলার প্রধান ফসল হলো ধান,আলু, বেগুন,টমেটো.শাকসবজি। যোগাযোগ ব্যবস্থায় রয়েছে পাকা রাস্তা ৬৮ কিঃমিঃ, আধা পাকা ১০ কিঃমিঃ, কাচা রাস্তা ২০০ কিঃমিঃ , নৌপথ ২৪ কিঃমিঃ, রেল পথ ৩০ কিঃমিঃ । শিল্প কারখানার মধ্যে সিগারেট ফ্যাক্টরী, চাউলকলও তৈল কল উল্লেখযোগ্য।

            এ উপজেলা টি আর্সেনিক প্রবণ এলাকা । এ পর্যন্ত ৩,৫৬৩ জন আর্সেনিক রোগী সনাক্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ ও এনজিও সমূহ কর্তুৃক আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৭২ টি আর্সেনিকমূক্ত গভীর নলকূপ, ২১০ টি আর্সেনিকমু্ক্ত তারা নলকহপ, ৭৬২টি আর্সেনিকমূক্ত অগভীরনলকহপ স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া পৌর এলাকায় পৌরসভা থেকে গভীর নলকহপ থেকে আর্সেনিক মূক্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

লাকসাম উপজেলায় মোট আবাদী জমির পরিমাণ ২৮,৫৬৬ একর ,খাস জমি ৪.০২১ একর ,অর্পিত সম্পত্তি ৭১০.৪৮ একর, পতিত জমি ২৮৫ একর। মোট উৎপাদিত কৃষিদ্রব্য ৬২,৯১৭ মেঃটন , খাদ্য চাহিদা ৫২,১৯৩ মেঃটন। খাদ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ১০,০০০ মেঃটন। খাদ্য গুদাম ০১টি যার ধারণ ক্ষমতা ২০০০ মেঃটন।

উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৭ টি, রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালযের সংখ্যা ০৯ টি, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২৫টি, মাদ্রাসার সংখ্যা ১৮টি, ইন্টারমেডিয়েট কলেজ ০৫টি ও ডিগ্রী কলেজ ০২টি রয়েছে।